অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা বা প্রতিশোধের নেশায় সময় নষ্ট না করে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কবি নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রতিশোধ নিতে গেলে পাঁচ বছরেও তা শেষ হবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমান অতীতের দুঃসময়ের স্মৃতি পেছনে ফেলে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, যদি প্রতিশোধের পেছনেই পাঁচ বছর ব্যয় হয়ে যায়, তবে জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়, সেই উদ্দেশ্য সফল হবে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সভায় তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সব ক্ষমতার উৎস এ দেশের জনগণ।
তিনি দাবি করেন, দেশের জনগণ বিভিন্ন সময়ে তাদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনগণ তাদের ক্ষমতার প্রমাণ রেখেছে। আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস।
তাকে অতীতে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং এরপর তার ওপর অমানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তিনি বলেন, সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন এখনো তারেক রহমান বহন করছেন। তবে তারেক রহমান নিজেই জানিয়েছেন যে, তিনি সেই তিক্ত দিনগুলো মনে রাখতে চান না। তিনি চান অতীতের গ্লানি ভুলে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যেতে।
আতিকুর রহমান রুমন আরও বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন তারেক রহমানকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এবার সবাইকে সেই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। যেন তারেক রহমানের নেওয়া ভালো কাজগুলো কোনোভাবেই আড়ালে পড়ে না যায়।
তিনি বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, তারেক রহমানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সফল করতে হলে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি মনে করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকা অত্যন্ত জরুরি। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং এই লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি সহায়ক হবে না। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তারেক রহমান যে পথ দেখাতে চান, সেই পথে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।
সভায় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও ছাত্র ফোরামের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন। আতিকুর রহমান রুমন তার বক্তব্যে বারবার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের ধারা বজায় রাখতে হলে প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে।
