প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে একটি প্রতারণার মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। জামিন আবেদনের শুনানিতে বিদিশার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফজলুর রহমান খান ও মাসুদ মিয়া।
এই আদেশের ফলে বিদিশার কারামুক্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে। এর আগে প্রতারণার দায়ে বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার বিরুদ্ধে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। পরদিন ২৬ আগস্ট তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
সে সময় তার আইনজীবীরা সাজার বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন আবেদন করেছিলেন। তবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ সেই আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর বিদিশা ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। ২ সেপ্টেম্বর বিচারক মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে সেই আবেদনও খারিজ করে দেন।
পরবর্তীতে তার আইনজীবীরা হাইকোর্টে এই আদেশের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জামিন আবেদন করেন। ২০০৮ সালে গুলশান থানায় এই প্রতারণার মামলাটি দায়ের করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন শিকদার। রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মামলা করা হয়। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, মোশাররফ হোসেন শিকদার মিরপুর-১০ এলাকার একজন স্যানিটারি পণ্য আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী।
২০০১ সালে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে ৮০ লাখ টাকায় ফ্ল্যাটটি বিক্রির চুক্তি হয়। মোশাররফ হোসেন শিকদার অভিযোগ করেন, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা তাকে বনানীর অফিসে ডেকে পাঠান এবং ফ্ল্যাটের দাম বাবদ ৭৫ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ইস্যু করতে বলেন।
মোশাররফ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা থেকে সেই টাকা পরিশোধ করেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে একটি বিক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন পাওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল এবং এরপর ফ্ল্যাটটি ক্রেতার নামে নিবন্ধন হওয়ার কথা ছিল।
২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও বিদিশা তা করতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর মোশাররফ হয় ফ্ল্যাটটি অথবা তার টাকা ফেরত চেয়ে যোগাযোগ করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা তাকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেন।
কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ব্যাংক সেই চেকটি প্রত্যাখ্যান করে। এরপর বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। মোশাররফ হোসেন শিকদার আরও অভিযোগ করেন, টাকা বা ফ্ল্যাট দাবি করলে তাকে ভাড়াটে অপরাধীদের মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া বিদিশা তাকে বলেছিলেন যে, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।
গত ২০ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে আরও এক মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আদালত তাকে পলাতক ঘোষণা করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
