পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আড়াই হাজার লিটার ভেজাল দুধ জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গত ৬ সেপ্টেম্বর রোববার ভোরে উপজেলার নাগডেমড়া এলাকায় অবস্থিত জুই ডেইরি ফার্ম নামের একটি প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভেজাল দুধ তৈরির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে এবং এর মালিক মো. মানিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাবনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদ হাসান রনি এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। অভিযানে ফার্ম থেকে দুই হাজার ৫০০ লিটার ভেজাল দুধ এবং দুই ব্যারেল ক্ষতিকর জেলি উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত দুধ ও জেলি পরবর্তীতে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযানের বিষয়ে সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদ হাসান রনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা এই ডেইরি ফার্মে অভিযান চালান।
সেখানে দেখা যায়, দুধের পরিমাণ ও ঘনত্ব কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর জন্য জেলি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া দুধ দীর্ঘসময় তাজা রাখার নামে তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড মেশানো হচ্ছিল। এই ধরনের কর্মকাণ্ড জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ফার্মের মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়।
এই অভিযানে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. মাহমুদ আলম এবং আনসার ব্যাটালিয়নের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলি ও হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড মিশ্রিত দুধ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ভেজাল দুধের প্রভাব অনেক বেশি নেতিবাচক হতে পারে। শিশুদের পরিপাকতন্ত্র এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বয়স্কদের তুলনায় কম হওয়ায় তারা এই ভেজাল দুধের কারণে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের রাসায়নিক মিশ্রিত দুধ সেবনের ফলে পাকস্থলী ও অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া এটি লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে এবং শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা তৈরি করতে পারে। ভেজালবিরোধী এই অভিযান পাবনা জেলাজুড়ে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের এই ধরনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। জব্দকৃত দুধ এবং রাসায়নিক উপাদানগুলো ধ্বংস করার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে এই ভেজাল দুধের সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে তারা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
