পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ডাবল ডেকার স্লিপার বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গভীর খাদে পড়ে গেছে। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের খলীলপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি আইকনিক পরিবহনের একটি যান, যা ঢাকা থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল।
দুর্ঘটনার সময় এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় অথবা অতিরিক্ত গতির কারণে চালক বাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গভীর খাদে পড়ে গেলে ভেতরে থাকা যাত্রীরা আটকা পড়েন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
বাসের দরজা দিয়ে যাত্রীদের বের করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়রা বাসের গ্লাস ভেঙে ভেতরে থাকা যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনেন। পরবর্তীতে খেপুপাড়া ফায়ার স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। ফায়ার স্টেশনের টিম লিডার শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ছয়জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
উদ্ধারকৃত আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কুয়াকাটা-বরিশাল সড়কটি এখনো ফোর লেনে উন্নীত না হওয়ায় সড়কটি বেশ সরু। সরু সড়কের পাশাপাশি অতিরিক্ত গতি এবং অসতর্কভাবে যান চালানোর কারণে এই এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মতিন জানান, বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার পর যাত্রীরা ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। দরজা দিয়ে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্লাস ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের মতে, সড়কটি দ্রুত ফোর লেনে উন্নীত করে প্রশস্ত করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে। বর্তমানে আহত যাত্রীরা কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর ওই সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও উদ্ধারকাজ শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে চালকদের সতর্ক থাকা এবং সড়কের উন্নয়ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা মত প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। আহত যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হবে। এই ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। সড়ক দুর্ঘটনার এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
