পটুয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গার্লস স্কুল রোড এলাকায় ছেলের মৃত্যুর দুই দিনের মাথায় মা আলম আরা খানের মৃত্যু হয়েছে। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আলম আরা খান প্রয়াত আশরাফ আলী খানের স্ত্রী এবং মুশফিকুর রহমান খান মামুনের মা ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ভোরের দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আলম আরা খানের ছেলে মুশফিকুর রহমান খান মামুন মারা যান। ছেলের অকাল মৃত্যুতে মা আলম আরা খান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ছেলের মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রোববার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। মৃত আলম আরা খানের নাতি মো. মুশফিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই মায়ের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মুশফিকুর রহমান খান মামুন এলাকায় পরিচিত মুখ ছিলেন এবং তার হঠাৎ মৃত্যুতে পরিবারটি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ে।
সেই শোক সামলে ওঠার আগেই মায়ের মৃত্যুতে পরিবারটির সদস্যদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আলম আরা খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই মা আলম আরা খান মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ছেলের মৃত্যুর ঘটনাটি পরিবারটির জন্য ছিল বড় ধরনের আঘাত। সেই আঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই মায়ের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আলম আরা খান দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন কি না তা স্পষ্ট নয়, তবে ছেলের মৃত্যু তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভর্তির পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। রোববার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই মা আলম আরা খান খাওয়া-দাওয়া ও স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন।
শোকের তীব্রতা তার শারীরিক অসুস্থতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। পটুয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গার্লস স্কুল রোড এলাকায় শোকাতুর পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা ভিড় করছেন। ছেলের মৃত্যুর পর শুক্রবার থেকেই পরিবারটিতে শোকের আবহ ছিল, যা রোববার মায়ের মৃত্যুর পর আরও গভীর হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আলম আরা খানের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা এই ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে মন্তব্য করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত মুশফিকুর রহমান খান মামুন এবং তার মা আলম আরা খানের আত্মার শান্তির জন্য সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন।
