নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত রোববার তাঁদের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক আদেশের মাধ্যমে তাঁদের বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মূল কারণ হলো তাঁদের নৈতিক স্খলন এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯ (১) ধারা অনুযায়ী তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগ প্রমাণিত হলে বা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারে।
বরখাস্তকালীন সময়ে অভিযুক্তরা সরকারি বিধি মোতাবেক খোরপোশ ভাতা প্রাপ্য হবেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ আগস্ট তাঁদের বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে এই বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ধারণ করা হয়েছিল।
ভিডিওটি ধারণ করার সময় বিদ্যালয়টি চালু ছিল এবং অভিযুক্তরা বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষেই অবস্থান করছিলেন। বিদ্যালয়ের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ ও তা পরবর্তীতে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবীব জানিয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সাধারণত শিক্ষকদের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে থাকে। বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষকে ব্যক্তিগত বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় শিক্ষা অফিস বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিভাগীয় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বরখাস্তের আদেশ কার্যকর থাকবে।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে যে ধরনের নৈতিক আদর্শ ও পেশাদারিত্ব প্রত্যাশা করা হয়, এই ঘটনায় তা ব্যাহত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ঘটনার পর থেকে ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন সময়ে অভিযুক্তরা কোনো ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। আইন অনুযায়ী, বরখাস্তের আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন সময়ে অভিযুক্তদের নিজ কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশনা থাকতে পারে, যা বিভাগীয় মামলার তদন্তের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নোয়াখালী জেলা শিক্ষা অফিস এই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। এই ঘটনার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষকদের নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি পুনরায় সামনে এসেছে।
শিক্ষা প্রশাসন ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।
