নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারীর গলা থেকে চুরি হওয়া এক ভরি ওজনের দুটি সোনার চেইন সন্দেহভাজন এক নারীর পেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের বহির্বিভাগে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারীর নাম বিবি ফাতেমা, তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
ঘটনার সময় তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখানোর জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র কৌশলে বিবি ফাতেমাকে ঘিরে ফেলে। চক্রের সদস্যরা তাঁকে ঘিরে ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে সেই সুযোগে তাঁর গলা থেকে এক ভরি ওজনের দুটি সোনার চেইন খুলে নেওয়া হয়।
চেইন চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী নারী চিৎকার শুরু করলে চক্রের তিন সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে উপস্থিত লোকজন সিনারা বেগম নামের ৫০ বছর বয়সী এক নারীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেন। আটক নারী জানান, তাঁর বাড়ি সিলেট জেলায়। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও উপস্থিত জনতা সিনারা বেগমের দেহ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করেন।
কিন্তু তল্লাশিতে চেইনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। চোর চক্রের সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত ওই নারীর নির্লিপ্ত আচরণ উপস্থিত লোকজনের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করে। রহস্য উন্মোচনের উদ্দেশ্যে তাঁকে হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। এক্স-রে করার পর ফিল্মে দেখা যায়, চেইন দুটি ওই নারীর পেটের ভেতরে রয়েছে।
তিনি চেইন দুটি গিলে ফেলেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর দ্রুত তাঁকে পার্শ্ববর্তী ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম পাটোয়ারীর তত্ত্বাবধানে এন্ডোস্কোপি করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সফলভাবে ওই নারীর পেট থেকে চুরি হওয়া সোনার চেইন দুটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনার খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায়।
পুলিশ অভিযুক্ত নারীকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক নারীকে হেফাজতে নিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার যদি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে, তবে সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রের এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রোগীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে অভিযুক্ত নারী পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এই ঘটনার পর হাসপাতালের বহির্বিভাগে নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
