নড়াইলের একটি মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছয় ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাহবুবুর রহমান নামের এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার ভোরে গাজীপুরের গাছা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় তাফসীর উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিশুর মা বাদী হয়ে গত শুক্রবার নড়াইল সদর থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট বিকেলে ভুক্তভোগী শিশুর মা তার সন্তানের খোঁজখবর নিতে মাদরাসায় যান। এসময় শিশুটি তার মাকে জানায় যে, শিক্ষক মাহবুবুর রহমান গত ২৭ আগস্ট রাতে তাকে বলাৎকার করেছেন।
বিষয়টি জানার পর শিশুটির মা মাদরাসার অপর এক শিক্ষককে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে ওই মাদরাসার আরও পাঁচজন শিশু অভিযোগ করে যে, গত কয়েকদিন ধরে শিক্ষক মাহবুবুর রহমান তাদেরকেও বলাৎকার করেছেন। এসব ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক গত ২৮ আগস্ট মাদরাসা থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসাটিতে বর্তমানে হেফজ বিভাগে মোট ১৪ জন ছাত্র পড়ালেখা করছে।
এর মধ্যে ছয়জন ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। মাদরাসাটিতে বর্তমানে দুইজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক অজয় কুমার কুন্ডু অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুরের গাছা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিশুদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য প্রদান করবে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদ এবং স্থানীয় অভিভাবকরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক ছিলেন এবং তাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ তৎপর ছিল। বর্তমানে মাদরাসার কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ করছে। ভুক্তভোগী শিশুদের আইনি সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতে পরিচালিত হবে এবং তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
