নড়াইল সদর উপজেলায় একটি আবাসিক মাদ্রাসার ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মারধরের অভিযোগ তোলার পর পুলিশ মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। বুধবার বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নড়াইল থেকে যশোর নেওয়ার পথে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় অবস্থান করছিল।
বুধবার ভোররাতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার পরিবারকে বিষয়টি জানায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। যশোর নেওয়ার পথে বেলা তিনটার দিকে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সৈয়দ ইকরাম আলী অভিযোগ করেছেন যে, মাদ্রাসার শিক্ষকদের মারধরের কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার আসরের নামাজের সময় তিনি তার সন্তানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং তখন সে শারীরিকভাবে সুস্থ ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে সময়মতো অসুস্থতার খবর জানায়নি।
যখন তারা খবর পেয়ে মাদ্রাসায় পৌঁছান, তখন শিশুটি অচেতন অবস্থায় ছিল। তার পরিবারের দাবি, মারধরের ফলে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তার ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর শিশুটি কথা বলার চেষ্টা করলেও শারীরিক অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে নড়াইল সদর থানা-পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু নিশ্চিত করেছেন যে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে থানায় আনা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা শিক্ষকদের নাম ইউসুফ হায়দার (৩৭), হাসিবুর রহমান (৩০) ও ফাহাদ শেখ (৩২)।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। এদিকে, এই ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার মুহতামিম বা পরিচালক নাজমুস সাহাদাত আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
তিনি ফোন করে পরে কথা বলার কথা বললেও পরবর্তীতে আর যোগাযোগ করেননি। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদ্রাসার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসা এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
