নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের বগিলা গাড়ি এলাকায় ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ে মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর সকালে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক স্থানীয় নীলফামারী ক্যাডেট একাডেমির সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ওই এলাকার মশিউর রহমানের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাতের খাবার শেষ করে মোন্নাফ নিজের কক্ষে ঘুমাতে যায়। শুক্রবার সকালে তার কক্ষ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। তারা তাকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি এবং কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
ভেতরে গিয়ে তারা মোন্নাফকে বিছানায় ছটফট করতে দেখেন এবং তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখেন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াহেদুল ইসলাম সরকার এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কিশোরটি রাতে একা ঘুমাচ্ছিল। অসুস্থ হয়ে পড়লেও পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে টের পাননি। সাপের কামড়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সাপের কামড়ের পর সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়া এবং বিষক্রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। বিশেষ করে রাতে ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ের ঘটনা মাঝেমধ্যেই শোনা যায়। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন স্থানীয়রা। মোন্নাফের অকাল মৃত্যুতে তার সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
নীলফামারী ক্যাডেট একাডেমির পক্ষ থেকে এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সাপের কামড় থেকে রক্ষা পেতে মশারি ব্যবহার করা এবং রাতে ঘুমানোর আগে ঘরবাড়ি ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাপের কামড় দিলে ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে অ্যান্টি-ভেনম বা সাপের বিষের প্রতিষেধক নেওয়ার জন্য চিকিৎসকরা বারবার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
মোন্নাফের ক্ষেত্রেও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু বিষক্রিয়া শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাটি নীলফামারী এলাকায় সাপের উপদ্রব এবং সচেতনতার অভাবকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোন্নাফ মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল এবং তার মৃত্যুতে পরিবারটি গভীরভাবে শোকাহত।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
