নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১০৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান শনিবার রাতে সদর মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার সাতটি থানায় এই অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ৫৪ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ২০ জন, বন্দর থানার ১১ জন, সোনারগাঁ থানার ৮ জন, রূপগঞ্জ থানার ৬ জন এবং আড়াইহাজার থানার ৫ জন রয়েছেন। এই অভিযানে মাদক সংক্রান্ত মামলার আসামিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
জেলা পুলিশ সুপার বলেন, নারায়ণগঞ্জে মাদকের বিস্তার, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ অস্ত্রের আধিক্যের বিষয়ে পুলিশ তথ্য পেয়েছিল। এই অপরাধগুলো দমনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, অন্যান্য সাধারণ অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এটি তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।
অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ একটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালায়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মীসহ বাংলা মদ সেবনরত বেশ কিছু ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, ওই ব্যক্তিদের মদ সেবনের কোনো বৈধ অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল কি না, তা এখন যাচাই করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বাইরে থেকে আনা মদের বৈধ কাগজপত্র এবং লাইসেন্স পরীক্ষা করা হচ্ছে।
যদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক না পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
পুলিশের এই বিশেষ অভিযানটি মূলত মাদক এবং অস্ত্রসহ বড় ধরনের অপরাধ দমনে জেলাজুড়ে চালানো হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, অপরাধীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় এই অভিযান চালানোর মাধ্যমে পুলিশ অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছে। বিশেষ করে মাদক এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ করতে পুলিশ এখন আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে। জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এই অভিযানটি কেবল শুরু এবং অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
