নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার জালাকান্দি এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী যুবকের নাম লিটন। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে লিটন পাগলা নামে পরিচিত।
মারধরের শিকার হওয়ার পর লিটনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই হামলায় লিটনের একটি হাত ও দুটি পা ভেঙে গেছে। ঘটনার পরদিন শনিবার রাতে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।
ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি লিটনকে মাটিতে ফেলে একটি বড় লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করছেন। এই সময় ভুক্তভোগী যুবক বাঁচার জন্য আর্তচিৎকার করছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সুমন। তিনি একই এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, লিটন মানসিক ভারসাম্যহীন এবং মানুষের কাছ থেকে খাবার চেয়ে খেয়ে জীবনযাপন করেন।
ঘটনার দিন শনিবার দিনের কোনো এক সময় লিটন সুমনের মায়ের কাছে খাবার বা ভাত চেয়েছিলেন। সুমনের দাবি, লিটন তার মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। এই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার রাতে একটি দোকানের সামনে থাকা লিটনের ওপর লাঠি নিয়ে চড়াও হন সুমন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, লিটনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলেও সুমনের ভয়ে কেউ তাকে ঠেকাতে এগিয়ে যাননি।
মারধরের পর স্থানীয়রা লিটনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই অভিযুক্ত সুমনের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। তারা এই ঘটনাকে অমানবিক হিসেবে উল্লেখ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সবজেল হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে।
তিনি বলেন, ঘটনার ভিডিওটি তারা দেখেছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, লিটন মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তিনি কারো সঙ্গেই তেমন কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতেন না। তার ওপর এমন হামলার ঘটনায় এলাকাবাসী স্তম্ভিত। বর্তমানে আহত লিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
