নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার গদাইরচর আছিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ছাত্রদের দিয়ে আলিম পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পরীক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের যাবতীয় পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রমে আজীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যেখানে দেখা যায়, একজন শিক্ষক নিজে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করে তার ছাত্রকে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করাচ্ছেন। এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে।
মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে এবং নিশ্চিত হয় যে, অভিযুক্ত শিক্ষক নাসির উদ্দিন চলতি ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের উত্তরপত্র নিজে মূল্যায়ন না করে তার ছাত্রদের দিয়ে মূল্যায়ন করিয়েছেন। এই ঘটনার পর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন।
মন্ত্রীর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে মাধবদী থানায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর অধীনে করা হয়েছে। একজন শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ড শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিচ্যুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয় কাজ, যা শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষকই করতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী বা অন্য কাউকে সম্পৃক্ত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষার পবিত্রতা ও মান বজায় রাখতে এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাকে আজীবনের জন্য বোর্ডের পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মাধবদী থানা পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করেছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। উত্তরপত্র মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনার ফলে পরীক্ষার ফলাফলের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট খাতাগুলো পুনরায় মূল্যায়নের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুরো বিষয়টি এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তাধীন রয়েছে।
