দেশের খ্যাতিমান চিত্রনায়ক সোহেল রানা নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দ্বৈত মানসিকতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে তিনি সমাজের মানুষের আচরণের অসংগতিগুলো স্পষ্ট করেছেন। নিজের পরিবারের নারী সদস্যদের নিরাপত্তা ও সম্মানের বিষয়ে মানুষ যতটা সচেতন ও সোচ্চার, অন্যের পরিবারের নারীদের ক্ষেত্রে সেই আচরণ বজায় থাকে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই ধরনের মানসিকতাকে তিনি সমাজ ও নৈতিকতার পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সোহেল রানা তার বক্তব্যে নারীর পোশাক ও বাহ্যিক অবয়ব নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ফাটা বা ছেঁড়া কাপড়ে ঢাকা কোনো নারীর শরীর আড়াল করার জন্য বা তাকে সহায়তা করার জন্য কেউ এগিয়ে আসে না।
অথচ সাজগোজ করা কোনো নারীর পোশাক খুলে নেওয়ার জন্য বা তাকে হেনস্তা করার জন্য মানুষ অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় করতে দ্বিধা করে না। এই বৈপরীত্য সমাজের গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি মনে করেন। নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নিজের বোন এবং অন্যের বোনের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত নয় বলে তিনি দৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
তিনি লিখেছেন, নিজের বোনকে রক্ষা করার জন্য যদি কেউ বাঘের মতো হিংস্র বা সাহসী হতে পারে, তবে অন্যের বোনকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে তাকে শূকর হওয়া উচিত নয়। অর্থাৎ, অন্যের পরিবারের নারীর প্রতিও সমান সম্মান ও সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করা প্রতিটি মানুষের নৈতিক কর্তব্য। সোহেল রানার এই বক্তব্য মূলত নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির একটি বড় দিক উন্মোচন করেছে।
তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, নারীর নিরাপত্তা কেবল নিজের পরিবারের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং সমাজের এই দ্বৈত মানসিকতা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এবং তার এই ধরনের সামাজিক বার্তা সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে যে, নারীর সম্মান কেবল ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক দায়বদ্ধতা। অন্যের বোনের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করা বা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদাসীন থাকা সমাজের সুস্থ বিকাশের পথে বাধা।
তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি মানবিক দায়িত্ব। নিজের পরিবারের নারীদের জন্য যে সুরক্ষা ও সম্মান প্রত্যাশা করা হয়, অন্যের পরিবারের নারীদের ক্ষেত্রেও সেই একই মানদণ্ড বজায় রাখা উচিত। তার এই পর্যবেক্ষণ সমাজের মানুষের চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনার আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোহেল রানার এই বক্তব্য নারীর প্রতি সহিংসতা ও অসম্মানজনক আচরণের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা। তিনি সমাজের মানুষের বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করেছেন যাতে সবাই নারীর প্রতি আরও বেশি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্বশীল হয়। তার এই বক্তব্যটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে এবং মানুষ এটি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছে।
নারীর প্রতি সমাজের এই দ্বৈত আচরণের অবসান ঘটিয়ে একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তা তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে।
