নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের পাঁচগাঁও বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দোকানগুলোতে থাকা মালামাল, টিনের তৈরি ঘর এবং আসবাবপত্রসহ যাবতীয় সম্পদ পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরবেলা বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পাশের দোকানগুলোতেও তা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা দ্রুত কলমাকান্দা ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি অবহিত করেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই কলমাকান্দা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ৪০ মিনিটের নিরলস প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের মধ্যে রয়েছেন কামাল হোসেন, শরিফ, ফিরোজ, আব্দুস সাত্তার এবং ফারুকসহ মোট ছয়জন ব্যবসায়ী।
মূলত কাপড়ের দোকানগুলোই এই অগ্নিকাণ্ডে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। কলমাকান্দা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে টিনের ঘর ও অবকাঠামোসহ মোট ছয়টি দোকান পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের জন্য তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে বলে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও তাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তাদের সহায়-সম্বল হারিয়ে মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেয়নি। অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বাজারের অন্যান্য দোকানদারদের বৈদ্যুতিক সংযোগের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাংলাদেশে প্রায়ই ঘটে থাকে, যা জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। কলমাকান্দার এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে তারা নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখছে যাতে পুনরায় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত হওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
