নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ৫ হাজার কেজি ওএমএস চাল কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম চৌধুরীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার বিকেলে গ্রেফতারকৃত দুই ব্যক্তিকে নেত্রকোনা আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন মদন উপজেলার দেওসহিলা গ্রামের আবু কালামের ছেলে মাসুম মিয়া এবং একই গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে আকারুল্লাহ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী একজন ওএমএস ডিলার এবং তিনি মদন উপজেলা বিএনপির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ তার দলীয় পদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের কাছে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য আসে যে, রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর গুদামে থাকা সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে দুটি হ্যান্ডট্রলিতে করে ফতেপুর বাজার থেকে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছিল। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শুক্রবার সকালে পুলিশ অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ফতেপুর ইউনিয়নের রুদ্রশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পাকা সড়ক থেকে দুটি হ্যান্ডট্রলি আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে প্রতিটি ৫০ কেজি ওজনের ১০০টি বস্তায় মোট ৫ হাজার কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, চালের বস্তাগুলোর সাথে খাদ্য অধিদপ্তরের লোগো ও লেখা সংবলিত ১৩৫টি খালি পাটের বস্তা এবং চাল পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি সবুজ রঙের হ্যান্ডট্রলি জব্দ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় সরকারি চাল কালোবাজারির উদ্দেশ্যে মজুত, পরিবহন ও পাচারের চেষ্টার অভিযোগে আটক দুজনসহ সংশ্লিষ্টদের বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫(১) ও ২৫(ডি) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন করিম জানিয়েছেন যে, আটক দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এবং আটক দুই ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বর্তমানে বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মামলার এজাহারে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী এবং তার সহযোগী কবির তালুকদার ও আব্দুল করিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
