নাটোর সদর উপজেলার চাঁদপুর বাজারে দুর্বৃত্তদের হামলায় আনোয়ারুল ইসলাম নামের এক হোমিও চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত আটটার দিকে নিজ চেম্বারে থাকা অবস্থায় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত আনোয়ারুল ইসলামের বয়স ৪৬ বছর। তিনি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে অবস্থিত চাঁদপুর বাজারে তাঁর নিজস্ব চেম্বার রয়েছে। ঘটনার সময় এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা চেম্বারে প্রবেশ করে এবং তাঁকে কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বৃষ্টি কিছুটা কমে এলে স্থানীয় লোকজন চেম্বারের মেঝেতে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর রহমান জানিয়েছেন, বুধবার রাত পৌনে আটটা থেকে আটটা পাঁচ মিনিটের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে বাজার এলাকা ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। মরদেহ বর্তমানে নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ অনুসন্ধান চালাচ্ছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, সন্ধ্যার পর থেকে প্রবল বৃষ্টির কারণে বাজারে লোকজনের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। এই নির্জনতার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা চেম্বারে ঢুকে চিকিৎসককে হত্যার পর পালিয়ে যায়।
পুলিশ ঘটনার মোটিভ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নয়। তবে তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে ভিড় করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় চেম্বারে চিকিৎসক একা ছিলেন কি না বা অন্য কেউ সেখানে উপস্থিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে।
বর্তমানে পুলিশি তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
