নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান, তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যরা। রোববার সকাল ১১টায় রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যরা এবং এতে সহযোগিতা করে জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশন।
সংবাদ সম্মেলনে জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মো. সাদাত রহমানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৪০টি নিখোঁজ শিশুর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন ও অনিশ্চয়তায় থাকা এই পরিবারগুলো তাদের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন এবং বছরের পর বছর ধরে অনুসন্ধান চালিয়েছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং অনেক ঘটনা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুনতাহা নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর শিশু উদ্ধারে অ্যাম্বার অ্যালার্ট ব্যবস্থা চালুর দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ বা ‘মুন অ্যালার্ট’ এবং টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ চালু করা হয়।
বর্তমানে এই উদ্যোগটি দেশব্যাপী শিশু নিখোঁজ প্রতিরোধ ও উদ্ধারে কাজ করছে বলে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি বা জিডির পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৫০০টিতে।
চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে ২ হাজার ৩৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। বক্তারা বলেন, এই পরিসংখ্যান কেবল সাম্প্রতিক কয়েক বছরের চিত্র। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই শিশু নিখোঁজ, অপহরণ ও পাচারের ঘটনা ঘটছে এবং এর অনেক ঘটনাই এখনো অমীমাংসিত।
তাই নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে রাষ্ট্রীয়ভাবে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে তারা মনে করেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে স্মারকলিপি প্রদানের সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
স্মারকলিপিতে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মামলাগুলো পুনরায় পর্যালোচনা ও তদন্তের আওতায় আনা, শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেওয়া, নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং শিশু সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানানো হবে। পরিবারগুলো আশা করছে, রাষ্ট্র তাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাবে।
