ভূমি মন্ত্রণালয় দেশের ৬১টি জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রকে আরও স্বচ্ছ, জনবান্ধব এবং মানসম্মত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন কিছু নির্দেশনা প্রদান করেছে। মন্ত্রণালয়ের ডিজিটালাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স অনুবিভাগ থেকে বুধবার দেশের ৬১ জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ নাগরিকদের ভূমিসেবা প্রাপ্তি সহজতর করা এবং সেবার মান নিশ্চিত করা।
জেলা প্রশাসকদের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রে সেবাগ্রহীতাদের জন্য একটি মতামত বাক্স স্থাপন করতে হবে। এই বাক্সটি এমন স্থানে রাখতে হবে যেন তা সহজেই সবার নজরে পড়ে। নাগরিকরা তাদের সেবা প্রাপ্তি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ, মূল্যবান পরামর্শ বা মতামত লিখিতভাবে এই বাক্সে জমা দিতে পারবেন।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তা প্রতি সপ্তাহে একবার এই বাক্সটি খুলবেন এবং প্রাপ্ত অভিযোগ ও পরামর্শগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করবেন। পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার একটি সারসংক্ষেপ কেন্দ্র পরিচালকের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। ভূমিসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রের ভেতরে ও প্রবেশপথে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসব প্রচারণামূলক উপকরণের মাধ্যমে অনলাইন খতিয়ান ও সার্টিফায়েড কপি প্রাপ্তি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, নামজারি আবেদন দাখিল এবং নির্ধারিত সরকারি ফি সম্পর্কে নাগরিকদের তথ্য দেওয়া হবে। এছাড়া হেল্পলাইন নম্বর ১৬১২২-এর তথ্যও এসব ব্যানারে সহজবোধ্যভাবে তুলে ধরতে হবে। মন্ত্রণালয় থেকে সরবরাহ করা নমুনা অনুসরণ করে স্থানীয়ভাবে এগুলো মুদ্রণ ও স্থাপন করতে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করবেন এবং ক্যামেরার ফুটেজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবেন। এছাড়া সেবাগ্রহীতাদের তথ্য অনুসন্ধান, টোকেন গ্রহণ এবং প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার সুবিধার্থে কিয়স্ক মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নিতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভূমিসেবা কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমের ওপর নিয়মিত নজরদারি রাখার জন্য মন্ত্রণালয় প্রতি তিন মাস অন্তর মূল্যায়ন করবে। এই মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সেবা প্রদানের সংখ্যা ও মান, মতামত বাক্সে পাওয়া অভিযোগ নিষ্পত্তির হার, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, সিসি ক্যামেরা ও কিয়স্ক মেশিনের কার্যকারিতা এবং নাগরিক সন্তুষ্টির মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।
প্রতি তিন মাস শেষ হওয়ার পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্ধারিত ছকে একটি প্রতিবেদন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিকেএমপি অনুবিভাগে পাঠাতে হবে। এই পুরো কার্যক্রমটি ‘জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২৬’ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। ভূমি মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ের ভূমিসেবা কেন্দ্রগুলো সাধারণ মানুষের জন্য আরও কার্যকর ও আস্থাশীল হয়ে উঠবে।
জেলা প্রশাসকদের এই নির্দেশনাগুলো যথাযথ গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভূমিসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের সহযোগিতায় দেশের ৬১টি জেলায় এই ভূমিসেবা কেন্দ্রগুলো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে। সরকারি এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে এবং ভূমিসংক্রান্ত জটিলতাগুলো দ্রুত নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের এই নির্দেশনার আলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে যাতে নাগরিকরা সরাসরি এর সুফল পেতে পারেন।
