চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৪১,০৩২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং এর মধ্যে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য জানানো হয়েছে। এই মোট মৃত্যুর সংখ্যার মধ্যে কেবল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেই ৩৯ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশের মোট ডেঙ্গু মৃত্যুর প্রায় ৩৪.
৫ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই মশা বাহিত রোগটি এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর হার উভয়ই বাড়ছে। এই পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট ৪১,০৩২ জন রোগীর মধ্যে ৩৮,১৭৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে গেছেন। তবে বাকিদের মধ্যে ১১৩ জন মারা গেছেন। এই মৃত্যুর পরিসংখ্যানের একটি বড় অংশ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা বা ওই এলাকার রোগী।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তথ্যানুযায়ী, এই নির্দিষ্ট এলাকায় এখন পর্যন্ত মোট ৫,৪০০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। সারা দেশে মোট যতজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এই ৫,৪০০ জন রোগী মোট আক্রান্তের ১৩.১৬ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এই পরিসংখ্যানগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর একটি বড় অংশ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এলাকায় কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। এই নির্দিষ্ট এলাকায় মৃত্যুর হার মোট আক্রান্তের হারের তুলনায় অনেক বেশি, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডেঙ্গুর বিস্তার এবং বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মৃত্যুর উচ্চ হার স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মশা বাহিত এই রোগের সংক্রমণ রোধে এবং মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এটি স্পষ্ট যে, ডেঙ্গুর প্রকোপ সারা দেশে থাকলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এলাকাটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা মোট আক্রান্তের ১৩. ১৬ শতাংশ হলেও মৃত্যুর সংখ্যা মোট মৃত্যুর ৩৪. ৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এই এলাকার স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব নির্দেশ করে।
সামগ্রিকভাবে, চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মতো এলাকায় যেখানে মৃত্যুর হার অনেক বেশি, সেখানে জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকি এবং তথ্যের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
