দেশের ছয়টি অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোর জন্য এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার সকাল পাঁচটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এই ঝোড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা এই বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের পক্ষে আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক এই পূর্বাভাসে স্বাক্ষর করেছেন।
নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এই সতর্ক সংকেত মূলত নৌযান চলাচলের নিরাপত্তার স্বার্থে জারি করা হয়। এক নম্বর সতর্ক সংকেত মানে হলো, বন্দর এলাকা বা এর অদূরে কোনো ঝোড়ো হাওয়া বা কালবৈশাখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সংকেত পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার নৌযানগুলোকে সতর্কতার সাথে চলাচল করতে বলা হয়।
বিশেষ করে ছোট নৌযানগুলোর ক্ষেত্রে এই সতর্কতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর ও এর আশেপাশের এলাকায় বায়ুর চাপের পার্থক্যের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতির কারণে নদীবন্দরগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে সাধারণত বর্ষা মৌসুমে বা মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এই ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির প্রবণতা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীবন্দর কর্তৃপক্ষকে এই সতর্কবার্তা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই পূর্বাভাসে উল্লিখিত ছয়টি অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোতে নৌযান চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সতর্ক সংকেত কার্যকর থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঝোড়ো হাওয়ার সময় নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বা সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর নিয়মিত বিরতিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনে এই ধরনের সতর্কবার্তা প্রচার করে।
এই সতর্ক সংকেত জারির ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো নৌ-দুর্ঘটনা হ্রাস করা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ঝোড়ো হাওয়ার সময় বাতাসের গতিবেগ ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার হওয়ার অর্থ হলো এটি নৌযান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তাই নদীবন্দরগুলোকে এই সংকেত মেনে চলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই সতর্কবার্তাটি বুধবার সকালের পূর্বাভাসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উপকূলীয় ও নদীবন্দর এলাকার বাসিন্দাদের এবং নৌযান চালকদের এই সতর্কবার্তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল ব্যবস্থার নিরাপত্তার জন্য এই ধরনের সতর্ক সংকেত একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতিনিয়ত স্যাটেলাইট ও রাডার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই পূর্বাভাস প্রদান করে থাকে। এই সতর্ক সংকেত জারির মাধ্যমে নৌ-দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীবন্দর কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।
