বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস বিদেশে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শেষে দেশে ফিরছেন। আজ বুধবার ২ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে রাত ৯টার দিকে মির্জা আব্বাসের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
দীর্ঘ সময় চিকিৎসার কারণে তিনি দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে ছিলেন। তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ ও স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস মালয়েশিয়া থেকে জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি পাওয়ার পরই দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তার দেশে ফেরার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে বলে পরিবার ও দলের নেতারা নিশ্চিত করেছেন। তবে দেশে ফেরার পরও তাকে নিয়মিত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। তার শারীরিক সুস্থতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিদিন ফিজিওথেরাপি দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ১১ মার্চ। ওইদিন ঢাকার শাহজাহানপুরের নিজ বাসায় ইফতারের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে ১৫ মার্চ তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার পর পরবর্তী বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছিল।
দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস তিনি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। মির্জা আব্বাস বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকায় তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিতে পারেননি। এখন সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে তার পুনরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল, তবে সুস্থ হয়ে ফেরায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার অনুপস্থিতিতে নির্বাচনী এলাকার কার্যক্রম ও দলীয় দায়িত্ব পালনে কিছুটা স্থবিরতা থাকলেও, তার প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আসবে বলে আশা করছেন দলের সংশ্লিষ্টরা।
বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি তার বাসভবনে যাবেন এবং সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করবেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও চিকিৎসকদের কঠোর পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরার এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সমন্বয় করা হয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর তার ফিরে আসা দলের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। এখন থেকে তিনি তার রাজনৈতিক ও সংসদীয় দায়িত্বগুলো পুনরায় বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তার শারীরিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
