দিনাজপুরের ফুলবাড়ী রেলগেট এলাকায় পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ইসার উদ্দিন নামে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ইসার উদ্দিন ফুলবাড়ী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তারেরডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মৃত ফজর উদ্দিনের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শুক্রবার বিকেলে ইসার উদ্দিন রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের সংকেত অমান্য করে রেললাইনের ওপর উঠে পড়েন।
এসময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে গেলে তিনি ট্রেনের নিচে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ফুলবাড়ী রেলস্টেশন মাস্টার আব্দুল লতিফ এই দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পার্বতীপুর জিআরপি পুলিশকে জানানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে।
রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই দুর্ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। রেলক্রসিং পারাপারের সময় অসতর্কতার কারণে প্রায়ই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় পথচারীরা ট্রেনের সংকেত উপেক্ষা করে রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস একটি দ্রুতগামী ট্রেন হওয়ায় এর গতিবেগ অনেক বেশি থাকে। ফলে রেললাইনে কোনো ব্যক্তি বা বস্তু চলে আসলে তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া বা ট্রেন থামানো চালকের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহল রেলক্রসিংগুলোতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
রেলওয়ে আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সংকেত অমান্য করে রেললাইন পার হওয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণহানির ঘটনাগুলো মূলত অসতর্কতা এবং রেললাইনের নিরাপত্তা বেষ্টনী না মানার কারণে ঘটে থাকে। পার্বতীপুর জিআরপি পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বারবার সাধারণ মানুষকে রেললাইন পার হওয়ার সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রেললাইন পার হওয়ার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
ফুলবাড়ী রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিয়মিতভাবে রেলক্রসিং এলাকায় মাইকিং এবং প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করে। তবে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ছাড়া এই ধরনের দুর্ঘটনা পুরোপুরি রোধ করা কঠিন। এই মর্মান্তিক মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তার উদ্রেক করেছে। রেললাইনের দুই পাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ এবং রেলক্রসিংগুলোতে আধুনিক সংকেত ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
