বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দলের অভ্যন্তরে এবং বাইরের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মির্জা আব্বাস তারেক রহমানকে সতর্ক করে বলেন যে, বিএনপির বিরুদ্ধে বর্তমানে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যক্তিগতভাবে ষড়যন্ত্র হতে পারে। তিনি তারেক রহমানকে সাবধান হতে বলেন এবং সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলেন।
মির্জা আব্বাসের মতে, তারেক রহমান অত্যন্ত উদার ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তবে তিনি মনে করেন যে, সব সময় এবং সব জায়গায় এই উদারতা প্রদর্শন করা সঠিক হবে না। তিনি অভিযোগ করেন যে, দলের কিছু নেতাকর্মী তারেক রহমানের সামনে ভালো কথা বলেন, কিন্তু তার সামনে থেকে চলে যাওয়ার পর বাইরে গিয়ে নেতিবাচক কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস মনে করেন যে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে তারেক রহমানের করা সব ভালো কাজগুলো কিছু খারাপ লোকের খারাপ কথা ও কাজের মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তিনি তারেক রহমানকে এই বিষয়টি লক্ষ্য করার জন্য অনুরোধ করেন।
দলের ভেতর ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্রের ষড়যন্ত্রকারী চক্রের কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন যে, এখন পর্যন্ত দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রগুলো দলের ভেতর থেকেই শুরু হচ্ছে এবং বাইরের লোকজনও এতে সহায়তা করছে। তিনি যারা এই ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত বা এই সাথে জড়িতদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
মির্জা আব্বাসের ভাষায়, নেতাকে ফাঁকি দেওয়া মানে দেশকে ফাঁকি দেওয়া। তিনি নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান যে, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য। তিনি বলেন যে, কিছু নেতাকর্মীর কারণে দলের বদনাম হচ্ছে এবং দু-একজন মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো দলের বদনাম হতে পারে না।
তবে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মির্জা আব্বাস জানান যে, দলের জন্য ক্ষতিকর কোনো বিষয় তার নজরে এলে তিনি তা তারেক রহমান এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জানাবেন। প্রয়োজনে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে তিনি জানান।
বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন যে, দলটি নানা নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে টিকে আছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই দল দেশটাকে বাঁচিয়ে রাখবে এবং তাই দলটিকে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন।
দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে তিনি বলেন যে, তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেল খেটেছেন। এছাড়া দলের অনেক নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। মির্জা আব্বাস বলেন যে, এত কিছুর পরও বিএনপি টিকে আছে এবং ভবিষ্যতেও টিকে থাকবে।
মির্জা আব্বাস তার রাজনৈতিক জীবনের শেষ সময়টুকু বিএনপিতেই কাটাতে চান বলে জানান। তিনি বলেন যে, শারীরিক অসুস্থতা এবং বয়সের কারণে আগের মতো সক্রিয় থাকা সম্ভব না হয়ও, তারেক রহমানের কাছ থেকে সরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
