দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান তীব্র লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ সংকটের জন্য জাতীয় সংসদে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বিগত সরকারের ১৫ বছরের ভুল ও অপরিকল্পিত নীতিকে দায়ী করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন যে বর্তমান সরকার পরিস্থিতির বিষয়ে কোনো লুকোচুরি করতে চায় না। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে সাধারণ মানুষ যে কষ্ট ভোগ করছে, তার জন্য তিনি নিজের মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সংকট একদিনে তৈরি হয়নি, বরং বিগত দেড় দশকের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে মানুষ আজ এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিগত সরকার অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা তৈরি করেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট।
এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দৈনিক ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানির মাধ্যমে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া গত ২১ জুলাই একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছিল।
যদিও ১৫ আগস্ট সেটি পুনরায় চালু করা হয়েছে, তবুও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া আদানি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে ৯০০ এবং রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
সংকট নিরসনে সরকার ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদনের চেষ্টা করছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত সরকার এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া রেখে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংকট কাটাতে দ্রুত ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যাতে মালিকেরা জ্বালানি আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত ৮টার পর দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনের জন্য তিনি সংসদ সদস্যসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান।
