প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। তিনি জানান, তার পরিচালিত ‘কন্যাদান’ সিনেমার শুটিং মাত্র তিন দিনেই শেষ করে ফেলেছিলেন সালমান শাহ। অথচ এই সিনেমার জন্য তাকে সাত দিনের শিডিউল দেওয়া হয়েছিল। নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু জানান, শুটিংয়ের তৃতীয় দিনেই তিনি সালমান শাহকে কাজ শেষ হওয়ার কথা জানান।
বিষয়টি শুনে সালমান শাহ অবাক হয়েছিলেন। তিনি নির্মাতাকে বলেছিলেন, সাত দিনের শিডিউল নেওয়া হলেও মাত্র তিন দিনে কাজ শেষ করে ফেলাটা সত্যিই বিস্ময়কর। সালমান শাহ নির্মাতার দ্রুত কাজ করার দক্ষতার প্রশংসা করেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে দ্রুত শুটিং শেষ করতে পারাটা শিল্পীদের জন্য সুবিধাজনক। নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু জানান, ‘কন্যাদান’ সিনেমায় সালমান শাহকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী ও প্রযোজক শাবানা।
শাবানার পরামর্শে তিনি সালমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সালমান শাহও সেই সময় তার সিনেমায় অভিনয় করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এই সিনেমায় সালমান শাহর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন লিমা। নির্মাতা জানান, লিমার সঙ্গে অভিনয়ের বিষয়ে সালমান শাহর কোনো আপত্তি ছিল না। লিমার আগের সিনেমার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে সালমান শাহ এই জুটিতে কাজ করতে সম্মতি জানিয়েছিলেন।
নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের কাছে সালমান শাহ ও লিমার জুটি এখনো বেশ জনপ্রিয়। সালমান শাহর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বলেন, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমাটি মুক্তির আগেই সালমান শাহ ও মৌসুমীকে নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সিনেমাটি মুক্তির পর দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।
নির্মাতার মতে, সিনেমার সাফল্যের পেছনে ভাগ্যেরও বড় ভূমিকা থাকে। সালমান শাহর অকালমৃত্যু নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় সালমান শাহ বেশিদিন কাজ করার সুযোগ পাননি। সালমান শাহর জনপ্রিয়তা ও তার কাস্টিং ভ্যালু সম্পর্কে নির্মাতা বলেন, বেঁচে থাকা পর্যন্ত সালমান শাহর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল।
কোনো শিল্পীর এক বা দুটি সিনেমা হিট করলেই দ্রুত তারকা হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই প্রসঙ্গে শাকিব খানের জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গও উঠে আসে। নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বলেন, শাকিব খানের জনপ্রিয়তা পেতে খুব বেশি সময় লাগেনি। চার-পাঁচটি সিনেমা করার পরেই তিনি দর্শকদের মাঝে পরিচিতি পেয়ে যান।
তিনি উল্লেখ করেন, শাকিব খানের ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। সালমান শাহর সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে তিনি অনেক গুণী নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। অল্প সময়ের অভিনয় জীবনে একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়ে তিনি দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন। নব্বইয়ের দশকে সালমান শাহর অভিনীত সিনেমাগুলো এখনো দর্শকদের কাছে নস্টালজিয়ার মতো।
তার অভিনীত ‘প্রেমযুদ্ধ’ ও ‘কন্যাদান’ সিনেমাগুলো সেই সময়ের অন্যতম আলোচিত কাজ। সালমান শাহর অকাল প্রয়াণের পর তার অভিনীত সিনেমাগুলো নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ এখনো বিদ্যমান।
