ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী উৎসব-২০২৬ পালন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিব মন্দিরের পেছনে অবস্থিত সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের নিজস্ব কার্যালয়ে অর্থাৎ ১০০৪ নম্বর কক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এরপর পূজা, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, বিশেষ অভিষেক এবং ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিপুল সংখ্যক ভক্ত অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্থান সংকুলানের কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়, যার জন্য আয়োজকরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের ধর্মচক্র সম্পাদক অংকন বিশ্বাস এই উৎসবের আয়োজন সফল করতে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ভবিষ্যতে এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন আরও সাফল্যমণ্ডিত হয়ে উঠবে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের তিনটি ভবনে নতুন ঠান্ডা পানির ফিল্টার স্থাপন ও উদ্বোধন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অক্টোবর ভবনে স্থাপিত ফিল্টারটি প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে। সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য ভবনের জন্য ফিল্টারটি প্রদান করেন বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বিধান বিহারি গোস্বামী।
এছাড়া রবীন্দ্র ভবনের জন্য ফিল্টারটি প্রদান করেছে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। এই ফিল্টার স্থাপন কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. দেবাশীষ পাল। জগন্নাথ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত প্রামাণিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সুবিধার্থে এবং সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা করছেন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এই ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এসে এই উৎসবে যোগ দেন। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও দর্শন প্রচারের লক্ষ্যে আয়োজকরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে। আয়োজক কমিটি এবং জগন্নাথ হল প্রশাসনের সমন্বয়ে পুরো কার্যক্রমটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে। সার্বিকভাবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্মাষ্টমী উৎসবটি অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে দিনটি স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
