ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সবুজ ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক জিএস পদপ্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম এই স্মারকলিপিটি উপাচার্যের কাছে হস্তান্তর করেন। স্মারকলিপিতে ক্যাম্পাসে সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ, নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং চাহিদার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তথ্যের বরাত দিয়ে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক স্থাপনা ও আবাসিক হলগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৮ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। এই বিশাল বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব বলে এতে দাবি করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি রুফটপ সোলার অ্যান্ড গ্রিন এনার্জি প্রোজেক্ট। এই প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পর্যায়ক্রমে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। স্মারকলিপিতে প্রকল্পের প্রথম ধাপ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই বা সোলার পটেনশিয়াল অ্যাসেসমেন্ট পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।
এই যাচাইয়ের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অধিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কয়েকটি ভবন নির্বাচন করে প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও কার্যকারিতা বিশ্লেষণের পর ধাপে ধাপে পুরো ক্যাম্পাসে এই উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়নের বিভিন্ন উৎসের কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিলের পাশাপাশি সরকারি অর্থায়ন, গ্রিন ফাইন্যান্সিং, করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি বা সিএসআর, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি এবং এসকো বা ওপেক্স মডেল ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সরাসরি আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ হিসেবে না দেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি জীবন্ত গবেষণাগার হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য সোলার পিভি, স্মার্ট গ্রিড ও নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে ব্যবহারিক গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও সেই ধারায় নেতৃত্ব দিতে পারে।
এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গঠনে বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় একটি দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
