শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর সকাল সোয়া আটটার পর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রাজধানীর মতিঝিল এলাকার শাপলা চত্বর থেকে এই লংমার্চ যাত্রা শুরু করে। এই কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অংশগ্রহণ করেছেন। তাকে একটি ছাদখোলা গাড়িতে চড়ে লংমার্চের মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে।
লংমার্চ শুরুর আগে সকাল সাতটায় শাপলা চত্বরে একটি উদ্বোধনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ এই যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও পথসভার কর্মসূচি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। লংমার্চের মূল উদ্দেশ্য হলো জোটের ঘোষিত ছয় দফা দাবি জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। শাপলা চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তারা তাদের বক্তব্যে ছয় দফার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ জোটের শীর্ষ নেতারা ছাদখোলা গাড়িতে করে লংমার্চের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার পর লংমার্চটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অতিক্রম করে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। লংমার্চের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচলের গতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছে। ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের এই লংমার্চ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং এটি তাদের দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।
লংমার্চের পরবর্তী কর্মসূচি এবং চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর সমাপনী সমাবেশের বিষয়ে জোটের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে লংমার্চটি সুশৃঙ্খলভাবে চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জোটের সমন্বয়ক জানিয়েছেন। ছয় দফা দাবির মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই লংমার্চের মাধ্যমে তারা দেশব্যাপী জনমত গঠনের চেষ্টা করছেন। লংমার্চের পুরো যাত্রাপথে জোটের কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে সংহতি প্রকাশ করছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অংশগ্রহণ এই কর্মসূচিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আগামী দিনগুলোতে এই আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি কেমন হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
তবে বর্তমানে লংমার্চের মূল লক্ষ্য হলো চট্টগ্রাম অভিমুখে যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করা। শাপলা চত্বরে আয়োজিত সমাবেশের পর থেকে লংমার্চের গাড়িবহরটি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। জোটের নেতারা জানিয়েছেন যে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের এই কর্মসূচি পালন করছেন এবং সাধারণ মানুষের সমর্থন প্রত্যাশা করছেন। লংমার্চের এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে ১১ দলীয় জোটের এই লংমার্চ কর্মসূচিটি বর্তমানে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
