রাজধানীর বনানী এলাকায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরগামী লেনের আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, সকালে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাতায়াতকারী গাড়িচালকরা রাস্তার ওপর মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে বনানী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহটি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত ব্যক্তির মুখমণ্ডল স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তরা অন্য কোথাও হত্যার পর মরদেহটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রেখে গেছে বলে পুলিশের ধারণা। এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
ঘটনার পর থেকে পুলিশ ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করছে। এক্সপ্রেসওয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত সড়কে কীভাবে মরদেহটি এল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। এখন পর্যন্ত নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তার বয়স বা শারীরিক গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহায়তার সাহায্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি, ঘটনার সময় ওই এলাকায় চলাচলকারী যানবাহনের তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সেখানে কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এক্সপ্রেসওয়ের প্রবেশ ও বাহির পথে থাকা নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এক্সপ্রেসওয়েতে সাধারণত ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহন চলাচল করে। সেখানে পথচারীদের হাঁটাচলার সুযোগ নেই। ফলে মরদেহটি কীভাবে সেখানে এল, তা নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছেন। পুলিশ আশা করছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
নিহতের পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি নিখোঁজ থাকেন বা এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য জানেন, তবে তাদের নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বর্তমানে বনানী থানা পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও সমন্বয় করছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আপাতত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না, তবে পরিচয় শনাক্তের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে।
