ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ফিতা কেটে এই সেতু দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই সেতুগুলো দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
দুই লেনবিশিষ্ট এই সেতুগুলো ব্যবহারের জন্য কোনো টোল প্রদান করতে হবে না। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, একসময় এই প্রকল্পের কাজ নানা কারণে স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকল্পটির গুরুত্ব অনুধাবন করে এর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী প্রকল্পের কাজের মান ও বাস্তবায়নের গতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গত সাড়ে তিন বছরে প্রকল্পের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ও পরিধি সংশোধন করে কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় এই সংশোধিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের আরও একটি অংশের কাজ শেষ হবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পুরো এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর, আশুলিয়া, বাইপাইল এবং ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হবে।
এর ফলে রাজধানী ঢাকা থেকে দ্রুত বাইরে যাওয়া এবং ঢাকায় প্রবেশের একটি নতুন ও আধুনিক সুযোগ তৈরি হবে। এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে উত্তরবঙ্গসহ দেশের ৩০টি জেলার প্রায় চার কোটির বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এটি পণ্য ও যাত্রী পরিবহনকে সহজ ও দ্রুততর করার পাশাপাশি ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের মূল নকশা অনুযায়ী, এর প্রধান ভৌত কাঠামোর মধ্যে রয়েছে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ১০ দশমিক ৮৩৪ কিলোমিটার র্যাম্প, ১৬ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার অ্যাট-গ্রেড সড়ক, ৪ দশমিক শূন্য ৫ কিলোমিটার বাইপাইল ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ এবং মোট ৭ দশমিক ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সেতু। সরকারি নথি অনুযায়ী, এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) শূন্য দশমিক ২১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে।
অনুমোদিত দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৬৬ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।
বুধবার সকালে আশুলিয়া বাজার ও ধউর এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সভাপতি চি উয়ে এবং প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।
