ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের আলিনগর বর্ণ বিদ্যালয় এলাকার একটি বাসা থেকে মো. রুহুল আমিন নামের এক কাপড় ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর বিকেল সোয়া ৪টার দিকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। রুহুল আমিনের বয়স ২৭ বছর ছিল।
কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক জিয়াদ মাহমুদ নাহিদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, রুহুল আমিন পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি তার ব্যবসার প্রসারের জন্য ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। ঋণের শর্ত অনুযায়ী তাকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হতো।
তবে গত কিছুদিন ধরে তার ব্যবসা মন্দা যাচ্ছিল। ব্যবসার এই নাজুক পরিস্থিতির কারণে তিনি নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছিলেন না। পুলিশ আরও জানায়, ওই ব্যবসায়ীর ওপর ঋণের বোঝা কেবল ব্যাংকের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার আরও বিভিন্ন জায়গায় দেনা ছিল। এই আর্থিক সংকট এবং ঋণের চাপ তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার এক সপ্তাহ আগে রুহুল আমিনের স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে তিনি বাসায় একাই বসবাস করছিলেন। আর্থিক সংকট এবং পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার কারণে তিনি গভীর হতাশায় ভুগছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে নিজ কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ কর্মকর্তা জিয়াদ মাহমুদ নাহিদ জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে পুলিশ এই ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ব্যবসায়িক মন্দা এবং ঋণের চাপে একজন তরুণের এমন মৃত্যুতে স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। রুহুল আমিনের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ তার আর্থিক লেনদেন এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।
ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারার মানসিক চাপ এবং একাকীত্বই এই আত্মহত্যার মূল কারণ হতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। পুলিশ ঘটনার দিন বিকেলে মরদেহ উদ্ধার করার পর থেকেই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
রুহুল আমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তার ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
