ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শাহানাজ বেগম (৬০) নামে এক নারী ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহর শাশুড়ি ছিলেন। শুক্রবার রাতে সংসদ সদস্য নিজেই এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শাহানাজ বেগমের অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে সংসদ সদস্য জানান, তিনি কয়েকদিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করছিলেন। কিন্তু অসুস্থতার লক্ষণগুলো পুরোপুরি দূর না হওয়ায় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে গত বৃহস্পতিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এসব পরীক্ষার ফলাফলে তার শরীরে ডেঙ্গু জ্বরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপের বিষয়টি বরগুনা জেলায় বেশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বরগুনা জেলাকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
সেই সময়ে জেলায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত বছরের সেই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে জেলায় মোট ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। চলতি বছরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত বরগুনা জেলায় ৯৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
আক্রান্ত হওয়ার পর তারা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ৯০২ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে শাহানাজ বেগমের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পরীক্ষা করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে জ্বরের তীব্রতা বাড়লে দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার বলা হচ্ছে। শাহানাজ বেগমের মৃত্যুর ঘটনাটি ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে পুনরায় সচেতন হওয়ার বার্তা দিচ্ছে।
বরগুনা জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা এবং তাদের সুস্থ হওয়ার হার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মনে করছেন।
শাহানাজ বেগমের মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।
