দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চারজনসহ চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন পুরুষ এবং দুজন নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন শিশু এবং বাকি তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হারও অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও এক হাজার ২৫২ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট দুই হাজার ৯৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৩৯ হাজার ৫৩২ জন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৬ হাজার ৪৬৭ জন।
মোট মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১১১ জনের মধ্যে ৬১ জন নারী, যা মোট মৃত্যুর ৫৫ শতাংশ। এছাড়া ৫০ জন পুরুষ মারা গেছেন, যা মোট মৃত্যুর ৪৫ শতাংশ। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাসপাতালে ৩৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাসপাতালে ১৬ জন এবং সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় তিনজন মারা গেছেন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ১৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১২ জন, বরিশাল বিভাগে ১০ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে আটজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগে চারজন এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে মোট দুজন মারা গেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরে লাল র্যাশ বা হাড়ের জয়েন্টে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগই ডেঙ্গুর জটিল উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রতিদিনের তথ্য হালনাগাদ করছে। দেশের প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে মশা নিধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
