ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দেহন গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে পাঁচটি কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে দুর্বৃত্তরা কবরগুলো খুঁড়ে কঙ্কালগুলো নিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা সকালে কবরস্থানে গিয়ে দেখতে পান যে পাঁচটি কবর খোঁড়া অবস্থায় রয়েছে।
এর মধ্যে পাশাপাশি তিনটি কবর এবং কিছুটা দূরে আরও দুটি কবর রয়েছে। কবরগুলোর মাটি সরানো অবস্থায় সেখানে দাফনের কাপড়ও পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, চুরি হওয়া কঙ্কালগুলোর কবর প্রায় এক থেকে দেড় বছর আগে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মৃত ব্যক্তিদের স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং খোঁড়া কবরগুলো পুনরায় মাটি দিয়ে ঢেকে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কাউসার রহমান দুলাল জানান, লোকজনের সমাগম দেখে তিনি কবরস্থানে যান এবং সেখানে পাঁচটি কবর খোঁড়া ও কঙ্কাল চুরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই ধরনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আব্দুল জলিল।
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন এবং পাঁচটি কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। তিনি দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। কবরস্থান থেকে কঙ্কাল চুরির মতো এমন ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা কবরস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তারা স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং অপরাধীদের ধরতে তৎপরতা চালাচ্ছে।
কবরস্থানটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় এবং রাতের অন্ধকারে এই চুরির ঘটনা ঘটায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। মৃত ব্যক্তিদের কবরের পবিত্রতা রক্ষা এবং এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে এবং কবরস্থানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
