ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার পাশের খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের কেয়াবাগান এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। গড়াই পরিবহনের বাসটি কুষ্টিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে খুলনার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কেয়াবাগান নামক স্থানে পৌঁছালে বাসটির সামনের চাকার এক্সেল হঠাৎ ভেঙে যায়।
এতে চালক বাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে সেটি মহাসড়কের পাশে খাদে উল্টে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
এদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন গুরুতর আহত অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি যাত্রীরা বিভিন্ন স্থানীয় ক্লিনিক ও সেবাকেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোফাজ্জেল হোসেন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, আহত যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং গুরুতর আহত কয়েকজনের চিকিৎসা চলছে।
মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কের ওই অংশে সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল। বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এক্সেল ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বাসটি উদ্ধারের পর সেটি জব্দ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই এলাকায় স্থানীয় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বর্তমানে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
মহাসড়কে চলাচলকারী অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীরাও দুর্ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, যার ফলে স্থানীয়রা সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বাসটির চালক বা হেলপারের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি খাদ থেকে তোলার জন্য ক্রেন ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার কাজ শেষ হলে মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। আহতদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং তারা হাসপাতালে পৌঁছেছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ দুর্ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
