জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মনোয়ার হোসেন নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ক্ষেতলাল পৌর এলাকার বটতলী বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মনোয়ার হোসেন উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই শরিফুল ইসলাম সুমনের পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই বৃহস্পতিবার সকালে হামলার ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দিন সকালে মনোয়ার হোসেন জয়পুরহাট থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ক্ষেতলাল পৌর শহরের বটতলী বাজার এলাকায় পৌঁছালে শরিফুল ইসলাম তাকে গতিরোধ করেন এবং অতর্কিতভাবে ছুরিকাঘাত করেন।
মনোয়ার হোসেন জানান, তিনি জয়পুরহাট থেকে বেগুন বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে বটতলী বাজারের একটি ফলের দোকানের পাশে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় শরিফুল ইসলাম পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। মনোয়ার হোসেন নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে হামলাকারী তার পিঠে এবং হাতে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয় লোকজন তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি রোগী মনোয়ার হোসেনকে দেখেছেন। তার পিঠের পেছনে এবং হাতে গভীর জখমের চিহ্ন রয়েছে। রোগীর ভাষ্যমতে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ঘটনার পর ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসপাতালে গিয়ে আহত ইউপি সদস্যের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। ক্ষেতলাল থানার পরিদর্শক মো. আব্দুল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আহত ইউপি সদস্যের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার কারণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বর্তমানে আহত ইউপি সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে।
