জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৯ দিনে মোট ৪৯ জন শিক্ষার্থীর শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের প্যাথলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১৯ কর্মদিবসে মোট ৪৮০ জন শিক্ষার্থী ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করান। তাদের মধ্যে ৪৯ জনের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা ও শরীরব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে আসেন। ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ আবাসিক হলে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন অথবা সুস্থতার জন্য বাড়িতে ফিরে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে একসঙ্গে এত শিক্ষার্থীর ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। এছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঝোপঝাড়, ময়লা-আবর্জনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হয়েছে, যা ডেঙ্গু বিস্তারের অন্যতম কারণ। শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু মশার ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; বরং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি।
গত জুলাই মাস থেকে ক্যাম্পাসে নিয়মিত মশকনিধনের স্প্রে না করার কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে বলে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শামছুল আলম জানিয়েছেন, বিগত সময়ের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেশি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে সামনের দিনগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশকনিধনের স্প্রে করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের অপ্রয়োজনীয় ঝোপঝাড় ও ময়লা-আবর্জনা দ্রুত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান জানান, মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে নিয়মিত বিরতিতে স্প্রে করা প্রয়োজন। তবে সর্বশেষ গত জুন মাসে ক্যাম্পাসে মশকনিধনের স্প্রে করা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, মশকনিধনের প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার জন্য গত জুলাই মাসে নতুন বাজেটের আবেদন করা হয়েছে। বাজেট পাওয়া গেলে দ্রুত উপকরণ কিনে মশকনিধন কার্যক্রম শুরু করা হবে। অন্যদিকে, জাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক জানিয়েছেন, গত এক মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
জমে থাকা পানি ও এডিস মশার প্রজননস্থলগুলো দ্রুত পরিষ্কার করার জন্য হল প্রভোস্ট ও এস্টেট অফিসের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে মেডিকেল সেন্টারের উপদেষ্টা পরিষদ ও মশা নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হবে।
ক্যাম্পাসের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
