জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কের বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার সংলগ্ন এলাকায় দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই সংকট উত্তরণে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। রুহুল কবির রিজভী আরও জানান, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
তার নির্দেশনায় পরিবেশ রক্ষায় এই দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি এবং নির্বাচনি ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’ দলিলেও পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি দেশের জলাভূমি, নদী, নালা, খাল ও বিল পুনর্খননের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন শিল্পকারখানার রাসায়নিক ও বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে দেশের নদ-নদী ও জলাশয় মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এই দূষণ রোধে এবং জলাশয়গুলো রক্ষায় সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, সরকার আগামী পাঁচ বছরে মোট ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে গত ছয় মাসে আড়াই কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা থাকলেও, বর্তমানে প্রায় তিন কোটি বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। বৃক্ষের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বৃক্ষ হলো পৃথিবীর প্রকৃতির ড্রয়িংরুম।
মানুষ যেমন নিজের ঘর সাজিয়ে রাখে, তেমনি বৃক্ষের মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলা সম্ভব। গাছ যত সতেজ থাকবে, পরিবেশ তত নির্মল হবে এবং মানুষ বিশুদ্ধ অক্সিজেন পাবে। অনুষ্ঠানে ৩০০ ফিট এলাকায় নিম ও কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে নিম গাছকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরিবেশ রক্ষায় যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক।
তিনি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে নিমগাছ লাগানোর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে একে পরিবেশ সচেতনতার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা পরিবেশ রক্ষায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়মিত বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানান। তারা বলেন, কেবল গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, বরং রোপণ করা প্রতিটি গাছের যথাযথ যত্ন নেওয়া এবং সেগুলোকে বড় করে তোলা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটময় মুহূর্তে প্রতিটি মানুষকে পরিবেশ সচেতন হতে হবে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচি কেবল রাজধানী বা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এই বৃক্ষরোপণ অভিযান অব্যাহত থাকবে। দলের পক্ষ থেকে পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কার্যক্রমকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
