প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই রাজনৈতিক অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন। রাশেদ খাঁন তার বক্তব্যে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দায়বদ্ধতা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি দাবি করেন, যে রাজনৈতিক দল তাদের নিজেদের সহযোদ্ধাদের প্রতি ন্যূনতম দায়বদ্ধতা দেখাতে ব্যর্থ হয়, তাদের পক্ষে জনদাবির প্রেক্ষিতে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রাশেদ খাঁন তার পোস্টে নারায়ণগঞ্জে একজন জামায়াত নেতার ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের হামলায় একজন জামায়াত নেতা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
কিন্তু এই ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কোনো জোরালো প্রতিবাদ পরিলক্ষিত হয়নি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ গত ১৬ বছরে কোনো অপরাধই করেনি, অথচ ছয় মাসের বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের চেয়েও বেশি অপরাধ করে ফেলেছে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ এবং সমালোচনার ধরণ নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
রাশেদ খাঁন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের অসুস্থতার ঘটনাটিও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, শুক্রবার একটি সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন হামিদুর রহমান আযাদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই মুহূর্তে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের আচরণে সহমর্মিতার অভাব ছিল বলে তিনি দাবি করেন। রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, অসুস্থ হওয়ার পর হামিদুর রহমান আযাদকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে তাকে চেয়ারে বসিয়ে রেখে সংবাদ সম্মেলন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুজন সিনিয়র নেতা তাকে ধরার পর দ্রুত অন্যদের কাছে হস্তান্তর করে পুনরায় সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িয়ে যান। এই দৃশ্য দেখে রাশেদ খাঁনের মনে হয়েছে, সহযোদ্ধার জীবন রক্ষার চেয়ে মিডিয়া ফুটেজ বা প্রচারণাকে তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মিয়া গোলাম পরওয়ারের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বা শারীরিক ভাষা দেখে মনে হয়েছে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেননি।
তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করে অসুস্থ নেতাকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। সহযোদ্ধার প্রতি এই অবহেলা এবং উদাসীনতা জামায়াতের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাশেদ খাঁন তার পোস্টে স্পষ্ট করেন যে, রাজনৈতিক দলের নেতাদের একে অপরের প্রতি যে দরদ বা সহমর্মিতা থাকা প্রয়োজন, তা এই ঘটনায় অনুপস্থিত ছিল।
তিনি পুনরায় জামায়াতের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে বলেন, নিজের দলের সহকর্মীদের প্রতি যাদের ন্যূনতম দায়বদ্ধতা নেই, তারা জনদাবির কথা বলে লংমার্চ করতে যাচ্ছে। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জের ঘটনার উদাহরণ টেনে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
রাশেদ খাঁনের এই ফেসবুক পোস্টটি মূলত জামায়াতের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এবং তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির যৌক্তিকতা নিয়ে একটি কঠোর সমালোচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি তার পর্যবেক্ষণে বারবার এই বিষয়টিই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত আগে নিজেদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং সহমর্মিতার জায়গাটি নিশ্চিত করা।
