সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখ মো. সিদ্দিক, যিনি ‘ভাইরাল সিদ্দিক’ নামে পরিচিত, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক দাওয়াতি সমাবেশে তাকে ফুল হাতে দেখা যাওয়ার পর তার দলটিতে যোগদানের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সিদ্দিক জানিয়েছেন, তিনি ওই অনুষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, বরং একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, বর্তমানে তিনি কনটেন্ট তৈরির কাজ করছেন এবং এর অংশ হিসেবেই তিনি ওই অনুষ্ঠানে ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দেওয়া হলে তিনি তা গ্রহণ করেন, কিন্তু এটি কোনো আনুষ্ঠানিক যোগদান ছিল না বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তবে ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি।
সিদ্দিক বলেন, জামায়াতে যোগদানের জন্য যে সততার প্রয়োজন, তা অর্জনের চেষ্টা করছেন তিনি এবং সততা অর্জন করতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে তিনি দলটিতে যোগ দিতে পারেন। গত ১ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামীর মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত ওই সমাবেশে সাবেক বিচারপতি, আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ মোট ৬৫০ জন আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগদান করেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের হাতে রজনীগন্ধা ফুল তুলে দেওয়া হয়। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতারা মঞ্চে উপস্থিত থেকে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল সিদ্দিক হিসেবে পরিচিত মো. সিদ্দিক গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অদ্ভুত কর্মকাণ্ড, বিতর্কিত মন্তব্য এবং অভিনব প্রতিবাদের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন।
ইন্টারনেটে তার বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য প্রায়ই আলোচনার জন্ম দেয় এবং অনেক সময় তিনি নেতিবাচক মন্তব্যের মুখে পড়েন। এর আগে গত মে মাসে রাস্তার পাশের দানবাক্স ব্যাগে ভরে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি হাতেনাতে ধরা পড়েন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, দানবাক্সটি তার নিজের এবং তিনি এটি একটি সংগঠনের কাজের জন্য স্থাপন করেছিলেন।
এছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে অদ্ভুত কায়দায় দোয়া বা মোনাজাত করে তিনি একাধিকবার ইন্টারনেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে এলোমেলো ও বিকৃত বক্তব্য দেওয়ার কারণে অতীতে তিনি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন এবং গণপিটুনির শিকার হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে তিনি নিজেকে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচয় দেন এবং নিয়মিত তার ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ভিডিও শেয়ার করেন।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ৬৫০ জনের যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও, ভাইরাল সিদ্দিকের যোগদানের বিষয়টি কেবলই একটি গুঞ্জন হিসেবে রয়ে গেছে। তার নিজের ভাষ্যমতে, তিনি বর্তমানে কনটেন্ট তৈরির কাজেই বেশি মনোযোগী এবং রাজনৈতিক দলে যোগদানের বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গণসংযোগ কর্মসূচি এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
তবে ভাইরাল সিদ্দিকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি অনেক সময় মূল আলোচনার বাইরেও ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। সিদ্দিকের দাবি অনুযায়ী, তিনি কেবল পেশাগত প্রয়োজনে ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন এবং তার হাতে ফুল থাকা মানেই তিনি দলে যোগ দিয়েছেন এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই।
