জামায়াতের ঘোষিত লংমার্চের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ থাকা এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি অপচয়ের ফলে জনভোগান্তি ও জ্বালানি সংকট তীব্রতর হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। রাশেদ খাঁন বলেন, বিরোধী দলের ডাকা এই লংমার্চে সাধারণ মানুষের কোনো অংশগ্রহণ নেই এবং তাদের মধ্যে এই কর্মসূচির প্রতি কোনো আগ্রহও দেখা যাচ্ছে না।
তিনি উল্লেখ করেন যে, লংমার্চের আয়োজকরা আশা করেছিলেন রাস্তার দুই পাশে মানুষের ঢল নামবে এবং তাদের নেতার গাড়ি জনতার ভিড়ে আটকে যাবে, কিন্তু বাস্তবে তেমনটি ঘটেনি। রাশেদ খাঁনের ভাষ্যমতে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৯ দলীয় জোটের এই কর্মসূচিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র ছয় মাস ক্ষমতায় রয়েছে, অথচ বিরোধী দল তাদের ওপর গত ১৮ থেকে ২০ বছরের জমে থাকা সমস্যা, সংকট ও অব্যবস্থাপনার দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। তার মতে, এটি এক ধরনের মূর্খতা। সরকার জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত জাতীয় সংসদ সনদ বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিরোধী দলের দেওয়া ছয় দফার প্রতি জনগণের কোনো আগ্রহ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাশেদ খাঁন বলেন, লংমার্চের নামে রাস্তাঘাট বন্ধ রাখায় এবং প্রায় ১ লাখ লিটার তেল অপচয় করার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে এবং জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে, কিন্তু লংমার্চের কারণে এই যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এর ফলে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, জামায়াত সম্পূর্ণ দলীয় স্বার্থে এবং মিথ্যাচার ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জনগণের ওপর জোরপূর্বক এই লংমার্চ কর্মসূচি চাপিয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাস সংক্রান্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংকট সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন এবং তারা এই পরিস্থিতির পেছনের কারণগুলো বুঝতে সক্ষম বলে তিনি দাবি করেন।
তার মতে, বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্যে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, এই ধরনের কর্মসূচি জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং এর ফলে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সরকার এই সংকট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে এবং জনগণের ধৈর্য ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে। রাশেদ খাঁনের এই বক্তব্যটি এমন সময়ে এল যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে জনজীবন ও পরিবহন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ উঠছে।
সরকার ও বিরোধী দলের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। লংমার্চের কারণে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও সরবরাহের ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
