জামালপুর পৌর শহরের চালাপাড়া গ্রামের একটি বসতঘর থেকে রোকসানা আক্তার শিলা (৩৫) নামের এক নার্সের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত রোকসানা আক্তার শিলা জামালপুর শহরের মানবসেবা জেনারেল হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি চালাপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ওই নার্সের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রোকসানা আক্তার শিলার মরদেহ দেখতে পান।
এরপর পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করেছে। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোকসানা আক্তার শিলার কর্মস্থল মানবসেবা জেনারেল হাসপাতালের সহকর্মীরা তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোকসানা আক্তার শিলা নিয়মিত তার কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় প্রাথমিকভাবে এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ঘটনার সময় বাড়িতে আর কেউ ছিলেন কি না বা মৃত্যুর আগে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ছিল কি না, তা নিয়ে পুলিশ স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
রোকসানা আক্তার শিলার ব্যক্তিগত জীবন এবং কর্মস্থলের পরিবেশ নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। জামালপুর সদর থানা পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সাথে কোনো অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে।
স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। রোকসানা আক্তার শিলার অকাল মৃত্যুতে তার সহকর্মী এবং পরিচিত মহলে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
