দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিকল্প উৎস খুঁজছে এবং জ্বালানি খাতের বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর একটি হোটেলে আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার হয়ে যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের সময় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এই ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে জ্বালানি খাতে বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভবনকে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
জ্বালানি উৎসের সন্ধানে সরকার আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির নতুন উৎস এবং সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই খাতে চীন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও একাধিক উৎস নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশকে শুধু বন্যা, অবৈধ অভিবাসন বা বিভিন্ন সংকটের দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায় না সরকার। বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ ব্যবস্থার আদলে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ডিজিটাল সেবার পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার পর এই অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষা বিশ্ব-দরবারে তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এবারের অধিবেশনে উন্নয়নের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি প্রতিরোধ এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়, তবে সরকার বিভিন্ন খাতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশকে একটি আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায় সরকার।
