বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে নতুন একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা গৌতম ঘোষ এবং বাংলাদেশের প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান। এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণের মূল ভিত্তি হিসেবে শাহাদুজ্জামানের লেখা উপন্যাস 'একজন কমলালেবু'কে বেছে নেওয়া হয়েছে। নির্মাতা ও প্রযোজক জুটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কবির ব্যক্তিজীবনের নানা অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং তার সাহিত্যিক যাত্রাকে বড় পর্দায় তুলে ধরাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
হাবিবুর রহমান খান জানিয়েছেন, গৌতম ঘোষের সঙ্গে এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে এবং উভয়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অত্যন্ত আগ্রহী। নির্মাতা গৌতম ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে জীবনানন্দ দাশের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা করছেন এবং এই গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি লন্ডনে গিয়ে উপন্যাসটির লেখক শাহাদুজ্জামানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।
চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্র অর্থাৎ জীবনানন্দ দাশের ভূমিকায় কে অভিনয় করবেন, তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান একটি বিশেষ শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে বাংলাদেশের একজন অভিনয়শিল্পীকে নেওয়া হবে। তার মতে, জীবনানন্দ দাশের শারীরিক গঠন ও চেহারা বেশ সাধারণ ছিল, তাই এই চরিত্রের জন্য উপযুক্ত শিল্পী খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হবে না।
যেহেতু কবির জন্ম বাংলাদেশে, তাই তার চরিত্রে একজন বাংলাদেশি শিল্পীকে দেখার বিষয়টি যৌক্তিক বলে মনে করছেন তিনি। প্রযোজকের এই শর্তে নির্মাতা গৌতম ঘোষ সম্মতি জানিয়েছেন বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া চলচ্চিত্রটিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে ভূমেন্দ্র গুহের নাম উঠে এসেছে। হাবিবুর রহমান খান জানিয়েছেন, তিনি এই চরিত্রে অভিনেতা আফজাল হোসেনকে দেখতে আগ্রহী।
ভূমেন্দ্র গুহ ছিলেন জীবনানন্দ দাশের জীবনের শেষ সময়ের একজন তরুণ অনুরাগী। কবির মৃত্যুর পর তার ট্রাংক থেকে অসংখ্য অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি উদ্ধার এবং সেগুলো প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন ভূমেন্দ্র গুহ, যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। চলচ্চিত্রটিতে এই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান দীর্ঘ সময় ধরে চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
স্বাধীনতার পর ঋত্বিক ঘটকের 'তিতাস একটি নদীর নাম' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার প্রযোজনা জীবনের সূচনা হয়। এরপর তিনি 'হঠাৎ বৃষ্টি', 'মনের মানুষ', 'পদ্মা নদীর মাঝি' ও 'শঙ্খচিল'-এর মতো বহু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। জীবনের এই পর্যায়ে এসে জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করা তার একটি বড় স্বপ্ন।
তিনি জানিয়েছেন, কবির প্রতি বাঙালির আচরণ এবং তার জীবনের নানা কষ্ট ও বঞ্চনার দিকগুলো এই চলচ্চিত্রে ফুটিয়ে তোলা হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, কবির জীবনকাহিনি সঠিকভাবে পর্দায় উপস্থাপন করতে পারলে তা কবির প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা পূরণ করবে। বর্তমানে চলচ্চিত্রটির শুটিংয়ের সময়সূচি কিংবা মুক্তির তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
তবে গৌতম ঘোষ ও হাবিবুর রহমান খানের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দর্শকরা প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের এই অসামান্য কবির জীবন ও দর্শনকে বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পাবেন।
