মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী তার জন্মদিনকে জীবনের নতুন করে বাঁচার উপলক্ষ হিসেবে দেখছেন। প্রেশার কুকার সিনেমার এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে তিনি নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছেন। জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তার সাম্প্রতিক সময়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
স্নিগ্ধা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ তার জন্য ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। শারীরিক কষ্টের চেয়ে মানসিক যন্ত্রণাই তাকে বেশি ভুগিয়েছে। তার কাছে জন্মদিন মানে কেবল জীবনের আরও একটি বছর পার হওয়া নয়, বরং নিজের পথচলার দিকে ফিরে তাকানোর দিন। তিনি বলেন, এই শহর তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে এবং দিয়েছে, তবে কোনো কিছুই সহজে আসেনি।
অনেকবার তাকে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে এবং অনেক দরজা তার জন্য বন্ধ হয়েছে। গত জুলাই মাসে স্নিগ্ধার জীবনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। তিনি মারধরের শিকার হন এবং এরপর প্রায় ৪০ দিন অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন। এই সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে ছিলেন।
নিজেকে সময় দেওয়ার জন্য তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন। এই সময়ে তিনি কখনো কেঁদেছেন, কখনো চুপ থেকেছেন, আবার কখনো নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছেন। সব মিলিয়ে এই সময়টাকে তিনি তার জীবনের অন্যতম কঠিন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে এই পরিস্থিতি তাকে ভেঙে দিতে পারেনি বলে তিনি মনে করেন।
তিনি জানান, যারা ভেবেছিলেন তিনি ভেঙে পড়েছেন, তারা হয়তো কেবল তার নীরবতা দেখেছিলেন। তিনি বলেন, তিনি ভাঙেননি, বরং ক্লান্ত হয়ে কিছুটা সময় থেমেছিলেন। এখন তিনি আবার নতুন করে পথচলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মানুষের বিচার করার প্রবণতা নিয়েও স্নিগ্ধা তার অভিজ্ঞতা থেকে কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, অনেকেই পুরো ঘটনা না জেনেই একজন মানুষকে ভালো কিংবা খারাপ বলে বিচার করে ফেলেন।
কারও জীবনের সবচেয়ে দুর্বল সময়টাকেই তার পুরো পরিচয় হিসেবে ধরে নেওয়াটা ঠিক নয়। নিজের কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি নারীদের নিয়েও তার ভাবনার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন অন্যায়ের শিকার নারীদের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাদের হয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছেন বলে তিনি জানান। জন্মদিনে তিনি সব কর্মজীবী নারীর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এবং প্রত্যেক নারী যেন নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
সবশেষে, কঠিন সময়ে যারা কোনো স্বার্থ ছাড়াই তার পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভালোবাসা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, আন্তরিক ভালোবাসার শক্তি অনেক এবং ভালোবাসা মানুষের অনেক ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারে। স্নিগ্ধার এই বার্তাটি তার ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
তিনি এখন নিজের কাজ ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে মনোনিবেশ করতে চাইছেন। তার এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্পই তার এই বার্তার মূল বিষয়বস্তু। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিকূলতা মানুষের জীবনের অংশ এবং তা কাটিয়ে উঠেই সামনে এগিয়ে যেতে হয়।
