জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন যে, জনগণের অধিকার উপেক্ষা করে কোনো পক্ষই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর পল্টন মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে পল্টন মোড় থেকে শাপলা চত্বর অভিমুখে মিছিলের আগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সভায় বলেন, মানুষ যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে এসেছে, তাতে আগামী দিনের বাংলাদেশ জনগণের হাতেই থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, এই লংমার্চের উদ্দেশ্য কোনো সরকার পতনের চেষ্টা নয়, বরং এটি অধিকার আদায়ের একটি কর্মসূচি। নিত্যপণ্যের মূল্য কমানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, গ্যাস সমস্যার সমাধান এবং বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার দাবিতে এই লংমার্চ পালন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় দাবি হলো গণভোটের গণরায় অবশ্যই মানতে হবে।
বিএনপির প্রতি কথা বলার সময় সেলিম উদ্দিন বলেন, এই কর্মসূচি তাৎক্ষণিক সরকার পতনের হুমকি নয় এবং সংশ্লিষ্টদের কিছু করার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, জনগণের দুর্ভোগ যদি ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, তবে তাদের আর কেউ ঠেকাতে পারবে না।
তিনি মনে করেন, বিরোধী দল অবশ্যই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে, তবে জনগণ শুধু সরকারি দল ও বিরোধী দলের দিকে তাকিয়ে থাকবে না। জনগণের দেয়ালে যখন পিঠ ঠেকে যাবে, তখন তারা আর কারও দিকে তাকাবে না বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি এবং তার দল কারও অকল্যাণ চান না, তবে তারা জনগণের কল্যাণ চান। জনগণের প্রতি ভালোবাসার কারণে জনগণের কল্যাণ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন। তাই সময় থাকতেই সরকারকে সজাগ হতে হবে বলে তিনি অনুরোধ করেন। জামায়াতের এই নেতা আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ এখন আগের জায়গায় নেই।
বর্তমানে মন্ত্রীদেরও আইন মানতে হচ্ছে এবং পুলিশেরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস হয়েছে, তাই সবাইকে সতর্ক হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে তিনি বলেন।
সেলিম উদ্দিনের মতে, লংমার্চ একটি বড় আন্দোলন ও কর্মসূচি। সাধারণভাবে কথা বলে যখন সরকারের কানে জনগণের দাবি পৌঁছাচ্ছে না, তখন জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে বিরোধী দলকে রাস্তায় নামতে হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার যদি বুঝতে পারে যে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে এবং এই বার্তাকে সঠিকভাবে গ্রহণ না করে, তবে এর পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে।
এছাড়া, জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে একজন নারীর প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে সেলিম উদ্দিন বলেন, এমন ঘটনার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এড়িয়ে যেতে পারেন না। তিনি দাবি করেন, অন্য কোনো দেশে এমন ঘটনা ঘটলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হতো। পথসভা শেষে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পল্টন মোড় থেকে শাপলা চত্বর অভিমুখে একটি মিছিল বের হয়।
মিছিলে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জনগণের অধিকার আদায়, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
