জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভাগীয় পর্যায়ের খেলা শুরু হয়েছে। সরকারের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে ঢাকা বিভাগের এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিন দিনব্যাপী এই ক্রীড়া আয়োজনে ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলার বিভিন্ন কলেজের মোট ১ হাজার ৪৭২ জন অ্যাথলেট ও খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করছেন। বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে জেলার সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিভাগের এই পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। এই পর্বের বিজয়ীরা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কেবল শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না।
খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আনন্দময় ও মানবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য ড. আমানুল্লাহ উল্লেখ করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে।
এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর মধ্যে ক্রীড়া চর্চার জোয়ার সৃষ্টি করা সম্ভব হলে এর ইতিবাচক প্রভাব সারাদেশের শিক্ষাঙ্গনে পড়বে। সরকারের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীদের জীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেরই শৈশব হারিয়ে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের আনন্দ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। সরকারের চাহিদা ও আগ্রহ অনুযায়ী সারাদেশের ছেলেমেয়েদের মধ্যে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম এবং মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মুমিনুল হাসান।
এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, কর্মকর্তা, বিভিন্ন কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা। ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলার সেরা খেলোয়াড়দের এই মিলনমেলা শিক্ষাঙ্গনে ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহিত করার এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
