জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রস্তাবিত পুনর্গঠনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ২১ জন কর্মকর্তার ওপর আরোপিত লঘুদণ্ড মওকুফ করেছে সরকার। গত ২ সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবীব স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
পরবর্তীতে ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ওয়েবসাইটে এই প্রজ্ঞাপনগুলো প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আগে যে লঘুদণ্ড বা ছোট ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, তা এখন প্রত্যাহার করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে গত বছর এনবিআর কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়।
সেই সময় বোর্ডের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বেশ কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে ২১ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে লঘুদণ্ড আরোপ করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পর সরকার এখন সেই দণ্ড মওকুফের সিদ্ধান্ত নিল।
সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে দণ্ড মওকুফের এই আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের আগের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ফিরে পাবেন কি না, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এই ২১ জন কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিলেন।
তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার এই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পর তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকে। সেই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই দণ্ড মওকুফের বিষয়টি সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় কর্মকর্তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা এবং কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এনবিআরের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিরসনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর এখন সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এই আদেশ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে। উল্লেখ্য যে, এনবিআর পুনর্গঠন নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে সরকার বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বর্তমান এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্মজীবনে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ বা কর্মবিরতি সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। তাই এই ধরনের ঘটনার পর প্রশাসনিক তদন্ত এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
তবে সেই শাস্তির মাত্রা এবং তার পরবর্তী পুনর্বিবেচনার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সংস্কার এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই ২১ কর্মকর্তার দণ্ড মওকুফের বিষয়টি সেই প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়ারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সরকার আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটল এবং তারা এখন পুনরায় তাদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।
