চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় একটি রেস্তোরাঁ থেকে খাবার খাওয়ার পর শিশুসহ মোট নয়জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ৩১ আগস্ট সোমবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গা থানা সংলগ্ন ‘হাজী বিরিয়ানি হাউজ’ থেকে বিরিয়ানি কিনে খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিরিয়ানি খাওয়ার পর থেকেই তাদের তীব্র পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয়।
অসুস্থদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছেন। ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে খাবার খাওয়ার পর রাত ১২টার পর থেকে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। মঙ্গলবার ও বুধবার তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের মরিয়ম খাতুন, তার দুই সন্তান তাওহিদ ও তাওসিফ।
এছাড়া জেহালা ইউনিয়নের রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম, তার স্ত্রী পান্না খাতুন ও ছেলে সাহেদ এবং সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী, তাদের মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী ও আত্মীয় সুবর্ণা খাতুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন জানান, তিনি অফিস থেকে ফেরার পথে ওই রেস্তোরাঁ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাসায় নিয়ে যান।
রাতে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান সেই বিরিয়ানি খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, আলমডাঙ্গা থেকে ফেরার পথে তিনি দুই প্যাকেট বিরিয়ানি কিনেছিলেন। পরিবারের তিনজন সদস্য সেই খাবার খাওয়ার পর তীব্র পেটব্যথা ও বমিতে আক্রান্ত হন। জাহিদ হোসেন আরও দাবি করেন, একই রেস্তোরাঁর বিরিয়ানি খেয়ে একাধিক ব্যক্তি ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন।
তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি জানিয়েছেন, আলমডাঙ্গা থেকে আসা নয়জন রোগী বমি ও ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের ভাষ্যমতে, বিরিয়ানি খাওয়ার পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করছে। বিরিয়ানি হাউজের খাবারের মান এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
